এই দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায় অনুচ্ছেদ রচনা টি যেকোন ক্লাসের জন্য। যারা ক্লাস ৭ম শ্রেনীতে আছে তাদের জন্যও এই দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায়  রচনা টি। আবার ক্লাস দশম শ্রেনীতে আছো তাদের জন্য এই দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায় অনুচ্ছেদ রচনা । অর্থাৎ ক্লাস ৭ম শ্রেনী থেকে ১০ম দশম শ্রেনী পর্যন্ত সবার প্রযোজ্য এই দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায় অনুচ্ছেদ রচনা । অনুচ্ছেদ রচনাটি পড়ার আগে তোমরা রচনা লেখার নিয়ম ও সুচিপত্রটি দেখা নাও


দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায়

দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায়[চট্ট. বো, ২০০৯]

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার বি. বো. ২০০৮; কু. বো. ২০১৭/

দুর্নীতি ও বাংলাদেশ [রা. বো. ২০০৮)


ভূমিকা : বাংলাদেশে যেসব সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে দুর্নীতি বোধ হয় সবচেয়ে মারাত্মক—কারণ এই ব্যাধি মানসিক এবং তা সারানো খুব সহজ নয়। দুর্নীতিই আজ এক শ্রেণির মানুষের কাছে নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে, সমাজের একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি তার থাবা বিস্তার করেছে। এ অবস্থায় জাতীয় উন্নয়নে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না হয়ে পারে না।

দুর্নীতির সর্বগ্রাসী রূপ : বাংলাদেশ সীমাহীন দুর্নীতির আবর্তে নিমজ্জিত। সে দুর্নীতির অবস্থান দেখা যায় সর্বত্র। ঋণ নিয়ে বেমালুম হজম করে ফেলা, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করা, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করা, বিদ্যুৎ-পানি- গ্যাস চুরি, আয়কর-বিক্রয়কর ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া, চাকরির নামে হায় হায় কোম্পানি খোলা, হীনস্বার্থে শেয়ার কারচুপি, চোরাচালানি, কালোবাজারি, ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস—দুর্নীতি কোথায় নেই? এমনকী দুস্থ মায়েদের জন্যে বরাদ্দকৃত গম নিয়ে, এতিমখানার এতিমদের জন্যে বরাদ্দকৃত বস্ত্র নিয়ে, দুর্গত মানুষের জন্যে বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে। পরীক্ষার হলেও দুর্নীতি আধিপত্য বিস্তার করছে। সরকার দুর্নীতি দমন সংস্থা করেছেন দুর্নীতি সামাল দিতে। কিন্তু বিগত সরকারগুলোর আমলে দেখা যায়, দুর্নীতির ভূত সেখানেও আছর গেড়েছে। অসহায় মানুষ যেখানে ন্যায়বিচার আশা করে, সেই বিচার ব্যবস্থায় আইনের শাসনের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্নীতি। দুর্নীতির সর্বগ্রাসী রূপের জন্য সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের সারিতে। ব্যাপক দুর্নীতির জন্য দেশবাসীকে উচ্চমূল্য দিয়ে বিপুল ক্ষতি স্বীকার করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে দুর্নীতির ভয়াবহ ছোবলে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন জর্জরিত। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ সবকিছুকেই কলুষিত করেছে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলাবাজি, টোলবাজি ইত্যাদির মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়েছে সন্ত্রাসী চরিত্র, যাকে বলা চলে সন্ত্রাসী দুর্নীতি।

দুর্নীতি উন্নয়নের অন্তরায় : বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় দ্বিগুণ করা, সমৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করার অনেক সুযোগ এখন আমাদের সামনে এসেছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ফলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সার্বিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, লুণ্ঠিত হচ্ছে দেশের মূল্যবান সম্পদ, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে সেগুলো পাচার করা হচ্ছে বিদেশে। জনগণের দুঃখ ও দারিদ্র্যের অবসান তো দূরের কথা, তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল ধনবৈষম্য। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দাতাদেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে দুর্নীতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুর্নীতির মূলোৎপাটন : দুঃখের ও লজ্জার বিষয় হল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্দেশিকায় সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় প্রথম সারির নিন্দিত স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ গ্লানি দূর করার জন্যে সমগ্র জাতির সামনে এখন অন্যতম প্রধান করণীয় হচ্ছে দুর্নীতির মূলোৎপাটন। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক রূপান্তর ছাড়া এই দুর্নীতির ঘুণ থেকে আমাদের রেহাই নেই। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে, দুর্নীতি বিরোধী গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে আগামীতে হয়ত সেই সম্ভাবনার পথ খুলে যাবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় : আমরা জানি, কালো টাকা, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক গাঁটছড়া দুর্নীতিকে দিয়েছে ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য ব্যাপ্তি। ফলে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা, কর্ম ও জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রণকারী সব কিছুই বর্তমানে দুর্নীতির রাহু কবলিত। রাজনীতি, অর্থনীতি, আহার্য, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবিকা সবই যদি দুর্নীতির অক্টোপাসের কবলে পড়ে তবে দেশ ও জাতি অনিবার্য পতনের দিকে না যেয়ে পারে না। এ প্রেক্ষাপটেই আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। উপলব্ধি করতে হবে, অনেক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশকে আমরা এভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারি না। রাজনীতি-অর্থনীতি ইত্যাদি যেহেতু দেশের উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক তাই এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল ও সুনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই লাইনচ্যুত দেশকে আবার উন্নয়নের সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করতে হবে। যেহেতু বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিস্তার রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের পথ খুলে দিয়েছে তাই উন্নয়নের স্বার্থে এ ক্ষেত্রেও সংস্কার অনিবার্য।

দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বেড়াজাল থেকে দেশকে মুক্ত করার জরুরি পদক্ষেপ আজ সময়ের দাবি। এটা কঠিন কাজ। কিন্তু এর কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমিক ত্যাগী অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের মহিমা অর্জন করতে হবে। সব রাজনৈতিক এবং সকল রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে একযোগে নিতে হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান। এক্ষেত্রে চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধতা। সেই সাথে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সকল পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

দুর্নীতি-বিরোধী সামাজিক আন্দোলন : সম্প্রতি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ইত্যাদি পর্যায়ে লাগামহীন দুর্নীতি বিস্তারের ঘটনা ধরা পড়ায় দেশবাসী স্তম্ভিত। বনরক্ষকের দুর্নীতির ঘটনা রূপকথার কাহিনিকেও হার মানিয়েছে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে তা প্রতিরোধে আইন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা প্রয়োজন। তবে কেবল আইন পরিবর্তন করে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। কারণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতির অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, জনপ্রতিনিধি, আমলা, পুলিশ, কর্মচারী ও পেশাজীবীদের চিহ্নিত, অপসারিত, ক্ষমতাচ্যুত ও সমাজ-নিন্দিত করতে হবে। দিতে হবে উপযুক্ত শাস্তি। আর সেখানে দেশপ্রেমিক, কল্যাণব্রতী নতুন মানুষকে নিয়োগ দিতে হবে। 

উন্নত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে গড়ে তুলতে হবে দেশব্রতী মানবদরদী নতুন সমাজ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঘৃণা জাগিয়ে নতুন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্যে রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল স্লোগান হতে পারে 'দুর্নীতি করে যে দেশের ক্ষতি করে সে’, ‘দুর্নীতি রোধ কর, উন্নয়নের হাল ধর।'

উপসংহার : দুর্নীতির মূলোৎপাটনে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর করতে হবে। নির্লোভ, সৎ ও দেশব্রতী কর্মীদের যুক্ত করতে হবে এ কাজে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। গণমাধ্যম, বেসরকারি সেবা সংস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে এ ধরনের সংগঠনগুলো। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মস্তিষ্কে পচন ধরলে শরীরের কোনো অঙ্গ যেমন যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না তেমনি রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে না পারলে স্বচ্ছন্দ উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজ সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারে না। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রত্যাশিত উন্নয়নের জন্য তাই সুশাসনের বিকল্প নেই ।


আর্টিকেলের শেষকথাঃ দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায়  রচনা

শিক্ষার্থীরা  আজকে আমরা জানলাম দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায় রচনা সম্পর্কে  । যদি আজকের এই দুর্নীতি : উন্নয়নের অন্তরায় রচনা টি ভালো লাগে তাহলে এখনি ফেসবুকে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন আর এই রকমই নিত্যনতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ । Search-Asked BD




Post a Comment

Previous Post Next Post